২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনা এবং তার সেই উত্তাল যাত্রার নেপথ্য কুশীলবদের নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। বিশেষ করে গণভবন থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি এবং সেখান থেকে ভারতের দিল্লির হিন্দন বিমানঘাঁটি পর্যন্ত পুরো যাত্রায় যে চারজন পাইলট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গোপনীয় এই মিশনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাদের পরিচয় এবং বর্তমান কর্মস্থল নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা তথ্য সামনে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় বা সামরিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি, তবে নির্ভরযোগ্য সামরিক সূত্রের বরা兹 দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট দুপুরে গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে উদ্ধার করে তেজগাঁওয়ের কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া এমআই-১৭ হেলিকপ্টারটির পাইলট ও কো-পাইলটের দায়িত্বে ছিলেন যথাক্রমে এয়ার কমোডর আব্বাস এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। ওই গোপন মিশনের পর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্যে এয়ার কমোডর আব্বাসকে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল। কোর্স শেষে দেশে ফিরে তিনি নিয়মিত দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে তিনি বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের এয়ার হেডকোয়ার্টার ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে, সেদিনের সেই ফ্লাইটের কো-পাইলটের দায়িত্বে থাকা গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বাশার এয়ার বেইজে ওসি (অ্যাডমিন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর শেখ হাসিনাকে ভারতের দিল্লিতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল সি-১৩০ জুলিয়েট নামের একটি সামরিক পরিবহন বিমান। চরম গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার খাতিরে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে এবং প্রচলিত রুট এড়িয়ে পরিচালিত ওই বিমানের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে ক্রু ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে বিমানটি ঢাকায় ফিরে আসার পর পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। এছাড়া, ওই ফ্লাইটের কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন।
মন্তব্য করুন