একটি টেকসই, বৈষম্যহীন এবং মানবসম্পদকেন্দ্রিক সমাজ বিনির্মাণে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে ‘জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং আইসিপিডি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডেপটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় সংসদীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্পিকার তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যদি সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা যায়, তবেই জনমিতিক লভ্যাংশকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যের আলোকে তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
জাতীয় সংসদ সদস্যদের ফোরাম (বিএপিপিডি) গঠনের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে স্পিকার বলেন, এর মাধ্যমে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। তার মতে, পরিকল্পিত আইন ও নীতিনির্ধারণের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ সফল হতে পারে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ কোনো স্বয়ংক্রিয় অর্জন নয়, এটি মূলত সঠিক পরিকল্পনার ফল। তরুণ প্রজন্মের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। অন্যথায় এই বিপুল জনশক্তি সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মন্তব্য করুন