যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় 'ইউ-ভিসা' পাওয়ার আশায় এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন একদল অভিবাসী। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে এমন এক ঘটনা, যেখানে ১১ জন ব্যক্তি মিলে নিজেদের ওপর সাজানো ডাকাতির নাটক সাজিয়েছিলেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল অপরাধের শিকার হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করে বিশেষ এই ভিসার জন্য আবেদন করা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; ফেডারেল তদন্তকারীদের তীক্ষ্ণ নজরে ধরা পড়েছে এই সুপরিকল্পিত জালিয়াতির ঘটনা।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিবাসীরা স্থানীয় একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ডাকাতির ঘটনাটি মঞ্চস্থ করেছিলেন। ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা তাদের ওপর চড়াও হচ্ছে এবং তারা ভয়ে কুঁকড়ে আছেন। পুলিশকে খবর দেওয়া থেকে শুরু করে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ তারা এমনভাবে অনুসরণ করেছিলেন যাতে মনে হয় তারা সত্যিই একটি বড় ধরনের সহিংসতার শিকার। মূলত ইউ-ভিসা পাওয়ার অন্যতম শর্ত হলো কোনো গুরুতর অপরাধের শিকার হওয়া এবং তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করা।
এই প্রতারণা চক্রটি কেবল নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কাজ করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই চক্রটি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অভিবাসীদের এমন সব অপরাধের দৃশ্য সাজিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিত। সাজানো এই নাটকের মাধ্যমে তারা নথিপত্র তৈরি করে নাগরিকত্বের পথ সুগম করতে চেয়েছিল। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তারা যখন ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং সাক্ষীদের বয়ান মেলাতে শুরু করেন, তখনই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। প্রতিটি ব্যক্তির গতিবিধি এবং ডাকাতির ধরনের মধ্যে অস্বাভাবিক মিল খুঁজে পাওয়ায় সন্দেহ ঘনীভূত হয়।
বর্তমানে এই ১১ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ এবং অভিবাসন জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল আইন ভঙ্গ নয়, বরং যারা সত্যিই সহিংসতার শিকার হয়ে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন, তাদের অধিকারকেও ক্ষুণ্ণ করে। এই ঘটনাটি অভিবাসন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ইউ-ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতারকদের এখন দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড অথবা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মতো কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
মন্তব্য করুন