প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরে প্রায় ৩ হাজার বছরের পুরোনো একটি মূল্যবান পাথরের ব্লক আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। গবেষকদের জোরালো ধারণা, ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এই প্রাচীন পাথরটি ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যাওয়া রহস্যময় ‘মেসেন’ শহরের সঠিক অবস্থান ও অজানা ইতিহাস উন্মোচন করতে পারে। ঐতিহাসিক বিভিন্ন ধর্মীয় ও প্রাচীন গ্রন্থে এই শহর এবং এর আশপাশের অঞ্চলের নানা ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য আবিষ্কৃত এই পাথরটি মূলত মেসেন শহরেরই কোনো প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের অংশবিশেষ। এই প্রাচীন শহরটির অত্যন্ত কাছাকাছি ছিল বিখ্যাত ‘রোড অব হোরাস’ নামের একটি কৌশলগত সামরিক পথ, যা প্রাচীনকালে মিশরকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সাথে সংযুক্ত করত। সম্প্রতি পাওয়া বেলেপাথরটি দুটি ভাঙা খণ্ডে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এর গায়ে প্রাচীন খোদাই করা চমৎকার লিপি দেখতে পাওয়া গেছে। পাথরের একটি অংশে মিশরের নিউ কিংডম যুগের অত্যন্ত প্রতাপশালী ও বিখ্যাত শাসক দ্বিতীয় রামসেসের রাজকীয় উপাধি খোদাই করা রয়েছে। অন্যদিকে, অন্য অংশে প্রাচীন মিশরের সূর্য ও আকাশ দেবতা হোরাসকে ওই মেসেন শহরের মূল অধিপতি বা রক্ষাকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় একটি প্রাচীন মন্দিরের পাশাপাশি বিশাল দুর্গ এবং বেশ কিছু গুদামঘরের অবশিষ্টাংশের সন্ধান মিলেছে। এই প্রাচীন স্থাপনাগুলোর চারপাশের দেওয়ালগুলো মূলত কর্দমাক্ত বা পোড়ামাটিহীন ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। প্রাচীন মিশরের নিউ কিংডম যুগের সামরিক শক্তি এবং যুদ্ধকালীন রসদ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এসব মন্দির, দুর্গ ও প্রশাসনিক ভবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করছে। ঐতিহাসিকদের দীর্ঘ গবেষণা থেকে জানা যায় যে, প্রাচীন যুগের পর পরবর্তী সময়ে এই ভূখণ্ডটি গ্রিক এবং রোমান শাসকদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল, বিশেষ করে টলেমীয় শাসকেরা খ্রিস্টপূর্ব ৩০৫ অব্দ থেকে ৩০ অব্দ পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময় ধরে মিশর শাসন করেছিলেন।
তবে প্রত্নতত্ত্ববিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে আবিষ্কৃত এই পাথরের গায়ের খোদাইকর্মগুলোই শতভাগ নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে না যে বর্তমান টেল আবু সাইফিই সেই কাঙ্ক্ষিত প্রাচীন মেসেন শহর। এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে সেখানে আনুষ্ঠানিক খননকাজ এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা জোরালোভাবে অব্যাহত রয়েছে। গবেষক ও প্রত্নতত্ত্ববিদরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, আগামী দিনের ভবিষ্যৎ অনুসন্ধান ও গবেষণার মাধ্যমেই হয়তো বহু যুগ ধরে হারিয়ে থাকা মেসেন শহরের নিখাদ রহস্য পুরোপুরি আলোর মুখ দেখবে।
মন্তব্য করুন