বৈভব সূর্যবংশী আসলে কতটা ভালো? পুরো বিশ্ব ক্রিকেট মহল এখন এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে খুব একটা সফল হতে না পারলেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন এই কিশোর ব্যাটসম্যান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে সিরিজ শেষ করার পাশাপাশি জিতে নিয়েছেন সিরিজ সেরার পুরস্কারও।
তার এই নজরকাড়া পারফরম্যান্স নিয়ে যখন পুরো বিশ্ব মুগ্ধ, তখন ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান এবং দুইবারের আইপিএল জয়ী রবিন উথাপ্পা এই তরুণ তারকার ব্যাটিং কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন কিংবদন্তি স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের।
দুজনের মধ্যে তুলনা টেনে উথাপ্পা বলেন, ব্র্যাডম্যানের রান আটকাতে বোলাররা প্রায়ই বডিলাইন বোলিংয়ের আশ্রয় নিতেন। সূর্যবংশীর ক্যারিয়ারের এখনও শুরুর দিক হলেও, তার বিরুদ্ধেও প্রায় একই কৌশল ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে বোলারদের।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এখনই এটা বলা কঠিন। বৈভব যা করছে, তার জবাবে বোলাররা কী করবে তা আমরা এখনও সত্যিকার অর্থে দেখিনি। মানুষ কেবল তার ব্যাটিং স্টাইলটাকে মেনে নিতে শুরু করেছে। তাই আমাদের অপেক্ষা করে দেখতে হবে। কারণ ব্র্যাডম্যান যেভাবে ব্যাট করতেন, তার জবাবে বোলাররা বডিলাইনের আশ্রয় নিয়েছিলেন। বৈভবের কৌশল অনেকটা ব্র্যাডম্যানের মতোই, যেখানে তিনি প্রায় কখনোই এলবিডব্লিউ হতেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৈভব যদি তার স্ট্রাইক রেট বজায় রেখে চল্লিশের ওপরে গড় ধরে রাখতে পারে, তাহলে তাকে একজন ব্যতিক্রমী খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ না হলে এবং ব্র্যাডম্যান যদি আরও ৩০টা টেস্ট খেলতেন, তাহলে তার গড় ৯৯ বা তার বেশি থাকত কি না, সেটাও দেখতে দারুণ লাগতো।’
উথাপ্পার মতে, সূর্যবংশী যদি এভাবেই নিজের ক্যারিয়ারে এমন পরিসংখ্যান ধরে রাখতে পারেন, তাহলে তাকে একজন ‘ব্যতিক্রমী’ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি এমন ব্যতিক্রমী খেলোয়াড় দেখা যাচ্ছে। কারণ মানুষ আর প্রচলিত বোলিং বা ব্যাটিং কৌশলের ওপর নির্ভরশীল নয়। আজকাল যেকোনো কৌশলই অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড়রা এখন একটা নির্দিষ্ট খেলার ধরনের চেয়ে নিজেদের সহজাত প্রতিভার ওপরই বেশি নির্ভর করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই এমএস ধোনিকে মানুষ গ্রহণ করেছিল, কারণ তিনি নিজের মতো করে খেলতেন। এখন বৈভবও তার নিজের মতো করেই খেলছে।’
মন্তব্য করুন