দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ক্রমান্বয়ে প্রত্যাহার এবং সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে একটি নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছে ওয়াশিংটন। ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এবং ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তীব্র আকার ধারণ করা এই সংঘাত নিরসনে বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আলোচনার মূল লক্ষ্য: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনায় প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া এবং ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লেবাননের সামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া। ওয়াশিংটন চাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী যেন অন্তত তাদের তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা সীমান্ত বরাবর অবস্থানে ফিরে যায়। তবে ইসরায়েলি সামরিক সূত্রগুলোর মতে, নিরাপত্তার খাতিরে তারা সম্পূর্ণ এলাকা খালি করার চেয়ে ‘নিরাপদ নয়’ এমন এলাকাগুলো থেকে সেনা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও মার্কিন ভূমিকা:
নতুন মনিটরিং মেকানিজম: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সম্প্রতি একটি ‘রিয়েল-টাইম’ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা: গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি স্মারকলিপি অনুযায়ী সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা এই আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
ইসরায়েলের অবস্থান: ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, লেবাননে কোনো বিধিনিষেধ ছাড়া সামরিক অভিযান চালানোর স্বাধীনতা আপাতত শেষ হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহর সাথে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে তারা কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মানবিক সংকট: মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে লেবাননে এ পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লক্ষাধিক বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা কমাতে এবারের আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলের সামরিক পুনর্বিন্যাস এবং হিজবুল্লাহর সাথে তাদের অনানুষ্ঠানিক উত্তেজনার কারণে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো বেশ চ্যালেঞ্জিং।
মন্তব্য করুন