রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবিসংবলিত একটি বিতর্কিত বিলবোর্ড প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ ও আন্দোলনের মুখে তা সরিয়ে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে সংশোধিত বিলবোর্ডটি টানানো হয়।
এর আগে গত রোববার দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং দুই প্রো-ভিসির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে শিক্ষার্থীরা ওই বিলবোর্ড থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ছবি অপসারণের জোরালো দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত ছবিগুলো সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের মূল বিলবোর্ড থেকে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ছয় ব্যক্তির ছবি বাদ দিয়ে সেখানে কেবল সুখরঞ্জন বালী ও বজলুল হুদার ছবি রাখা হয়েছে।
‘নভোকালচার’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এই বিলবোর্ডটি টাঙানো হয়েছিল, যার পরিচালক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার। বিলবোর্ডে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও মীর কাসেম আলীর ছবি ব্যবহার করে তাদের ওপর ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া শেখ মুজিবুর রহমান হত্যায় দণ্ডিত মেজর (অব.) বজলুল হুদার ছবি দিয়ে ক্যাপশনে বিতর্কিত ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টারটি আসার পর থেকেই ক্যাম্পাসে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আড়ালে একাত্তরের মীমাংসিত বিষয় ও চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের স্বাভাবিকীকরণের কোনো সুযোগ নেই। শহীদ ড. শামসুজ্জোহার কবরের পাশে এ ধরনের রাজাকারদের ছবি প্রদর্শন রাবির শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের মুখে প্রথমে নভোকালচার কর্তৃপক্ষকে পোস্টারটি সরাতে বলা হলেও তারা অস্বীকৃতি জানায়; পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেই উদ্যোগ নিয়ে বিলবোর্ড থেকে বিতর্কিত ছবিগুলো অপসারণ করেছে।
মন্তব্য করুন