জলাতঙ্ক বা র্যাবিস রোগ প্রতিরোধে প্রায় ২০ লাখ ডোজ টিকা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং চলতি মাসেই অনুমোদন পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। এছাড়া কুকুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক আকারে ‘ম্যাস ডগ ভ্যাক্সিনেশন’ (এমডিভি) কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে বিশেষ করে ঢাকা শহরের বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে টিকার আওতায় আনা হবে।
জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যা আগামী জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরের পোষা কুকুর ও বিড়ালকে টিকা প্রদান ও বন্ধ্যাকরণ করা হবে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুরের বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ভ্যাসেকটমি বা বন্ধ্যাকরণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
দেশে কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩ জন এবং ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৭৫১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। একইসাথে বাড়ছে মৃত্যুহারও—২০২৫ সালে ৫৯ জন এবং ২০২৬ সালের প্রথম আড়াই মাসে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে কয়েকজনের মৃত্যুতে দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ যা আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। কোনো কুকুর বা বিড়াল কামড়ালে বা আঁচড়ালে দ্রুত আক্রান্ত স্থান ১৫ মিনিট সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে হবে।
মন্তব্য করুন