ভারতের দিল্লিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান ও লোকসভা সদস্য অখিলেশ যাদব। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লির রাজপথে হাজারো শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুললে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার এক প্রতিক্রিয়ায় অখিলেশ যাদব বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, স্বাধীনতার পর কোনো সরকার জনগণের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। হিটলারের ব্যক্তিগত বাহিনীর সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি অভিযোগ করেন যে, গতকাল অনেক বিক্ষোভকারীকে সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তিরা নির্মমভাবে মারধর করেছে, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।
বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে অখিলেশ আরও দাবি করেন যে, সরকার চাইলেও মন্ত্রীদের পদত্যাগে বাধ্য করতে পারছে না, কারণ মন্ত্রীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে তারা সরকারের বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস করে দিতে পারেন বলে ক্ষমতাসীনদের মনে ভয় রয়েছে। উল্লেখ্য, সোমবার হাজারো বিক্ষোভকারী সংসদ ভবন অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও বেধড়ক লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গত প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই ছিল ভারতের রাজধানীতে অন্যতম বড় কোনো সড়ক বিক্ষোভ। সংঘর্ষের ঘটনায় দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তাদের ১১৮ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মোট ১৭৮ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ অত্যন্ত উগ্র ও সহিংস আচরণ করায় তাদের বাধ্য হয়ে শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে।
তবে পুলিশের এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনের আয়োজকরা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ পার্টির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত লজ্জাজনক দিন। ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের দিল্লি পুলিশ নির্মমভাবে পিটিয়েছে।’ তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলোর বিষয়ে সরকার এখনো কোনো ধরনের ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের অনলাইন মূল্যায়ন নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অসন্তোষের জের ধরেই ভারতের রাজধানীজুড়ে এই গণআন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন