দীর্ঘদিন ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির খসড়া এবং এর ভাষা কী হবে সে বিষয়ে একমত হয়েছে চিরবৈরী দুই দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শুক্রবার (১২ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই ঐতিহাসিক অগ্রগতির তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করতে মধ্যস্থতাকারীরা এখন উভয় পক্ষের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে এবং সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর ও কাতারের সমর্থনে এই বৃহৎ মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে শান্তির এত কাছাকাছি পৌঁছানোকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। প্রায় একই সুরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও জানিয়েছেন যে, সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা এখন দোরগোড়ায়, যার পরিধির মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ইতিবাচক ধারাকে সমর্থন করে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা গত ৭ এপ্রিলের একটি নাজুক যুদ্ধবিরতির পর এবার স্থায়ী রূপ নিতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া। তবে ইরান এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ‘সেবার বিনিময়ে ফি’ বা টোল আদায়ের দাবিতে অনড় রয়েছে। চুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি ও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা অপসারণের কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে। বিনিময়ে আন্তর্জাতিক মহলে জব্দ থাকা ইরানের বিশাল আর্থিক সম্পদ অবমুক্ত এবং দেশটির ওপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তির অংশীদার হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তবুও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেনেভায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।
মন্তব্য করুন