একটি নতুন সপ্তাহের সূচনা হয়েছে এবং এর সাথে সাথেই দেশের আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেনও গতিশীল হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে শেয়ারবাজারের সূচকে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে কোন কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ল বা কমল তার ওপর। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ভ্রমণ এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের লেনদেন পরিচালনার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় কার্যক্রম সচল রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ সঞ্চয়কারী ও ঋণগ্রহীতারা ব্যাংক খাতের আমানত ও ঋণের সুদের হারের ওঠানামার দিকে তাকিয়ে আছেন। এছাড়া সোনার বাজারের সাম্প্রতিক ব্যাপক দামের পরিবর্তন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর সাধারণ মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে। চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক নতুন সপ্তাহের শুরুতে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচক ও বাজার পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে।
শেয়ারবাজারের হালচাল নতুন সপ্তাহের লেনদেন শুরুর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচকগুলোর সর্বশেষ অবস্থান বেশ ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইএক্স (DSEX) সূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে পৌঁছায় এবং শরীয়াহ সূচক (DSES) প্রায় ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। অন্যদিকে ডিএস-৩০ সূচকটি সামান্য হ্রাস পেলেও সামগ্রিকভাবে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। আজ রোববার এই সূচকগুলোর ভিত্তিত সঙ্গেই নতুন সপ্তাহের শেয়ার কেনাবেচা ও লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে।
বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রা সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দামে কিছুটা ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরকারি দর ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধান প্রধান মুদ্রার মধ্যে ইউরো, পাউন্ড, ইউয়ান, অস্ট্রেলীয় ডলার ও সিঙ্গাপুরি মুদ্রার মান কিছুটা কমলেও ভারতীয় রুপি ও জাপানি ইয়েনের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য খোলাবাজারে বা কার্ব মার্কেটে বৈদেশিক মুদ্রার দাম ব্যাংক হারের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখা যায়।
ব্যাংক খাতের সুদের হার আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সুদের হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতে ঋণের গড় সুদহার ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং আমানতের গড় সুদের হার ৬ দশমিক ২২ শতাংশে অবস্থান করছে। দীর্ঘমেয়াদি ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডিআরের ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংক ১০ শতাংশের বেশি সুদ প্রদান করলেও চলতি হিসাবে তা ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এছাড়া ব্যক্তিগত ঋণ ও শিল্পঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে, যদিও সামগ্রিক নীতি সুদহারের প্রভাব এখনো পুরোপুরি ঋণবাজারে প্রতিফলিত হয়নি।
সোনার বাজারদর আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও সোনার দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৫৩৮২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ক্রেতাদের মাঝে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি
বাজারের সাধারণ পণ্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডিম ও মুরগির দাম তুলনামূলকভাবে চড়া রয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে এবং ফার্মের মুরগির ডিমের প্রতি ডজন প্রায় ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি শাকসবজির দাম কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের ওপর তা বেশ ভালোই প্রভাব ফেলছে।
মন্তব্য করুন