প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন চীনের দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান আরও কঠোর রূপ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভা ‘ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস’ (এনপিসি) থেকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ৬ জন শীর্ষ জেনারেলসহ মোট ১৩ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একজন সদস্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
গত শুক্রবার রাতে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অপসারিত সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজন হাই-প্রোফাইল কমান্ডারও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির তদন্ত চলছিল। বহিষ্কার হওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের জেনারেল সু সুয়েচিয়াং এবং ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াং কাংপিং অন্যতম।
কেবল সামরিক বাহিনীই নয়, এই অভিযানের ধাক্কা লেগেছে চীনের বেসামরিক প্রশাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোতেও। বহিষ্কৃতদের তালিকায় জিনজিয়াং প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক প্রধান এবং একজন শীর্ষ আর্থিক নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক বাহিনী ও সরকারি দপ্তরগুলো থেকে দুর্নীতি নির্মূলের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজের প্রশাসনের ওপর শতভাগ রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করতে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সাম্প্রতিক এই গণ-বহিষ্কারের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বেইজিংয়ের এই শুদ্ধি অভিযান কোনোভাবেই শিথিল হওয়ার নয়, বরং দিন দিন তা আরও জোরালো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন