যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার পর সুইজারল্যান্ড থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ আলোচক দল। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাব্যাপী টানা ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং এই বৈঠক সমাপ্তির পর তাঁরা সুইজারল্যান্ড ত্যাগ করেন। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই কূটনৈতিক মিশনে ইরানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারমাণবিক খাতের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন, যা মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ [cite: আলোচনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইরানের সংসদের স্পিকার মোহামেদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এছাড়া দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি, উপ-তেলমন্ত্রী হামিদ বুর্দ এবং পারমাণবিক আলোচনায় অভিজ্ঞ আলি বাকেরি।]।
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে ইরানের মূল প্রতিনিধি দলের যৌথ নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির সংসদের স্পিকার মোহামেদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি [cite: আলোচনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইরানের সংসদের স্পিকার মোহামেদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।]। এই শক্তিশালী দলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন:
দেশের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতের নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে উপস্থিত ছিলেন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি।
জ্বালানি ও তেল খাতের বিষয়াবলি পর্যালোচনার জন্য দলে ছিলেন উপ-তেলমন্ত্রী হামিদ বুর্দ।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারমাণবিক আলোচনা ও কূটনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব আলি বাকেরি এই প্রতিনিধি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ (ISNA) এবং তাসনিম-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, আলোচনার মূল নীতিনির্ধারক প্রতিনিধি দল দেশে ফিরে গেলেও একটি বিশেষ কারিগরি বা প্রযুক্তিগত দল এখনো সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছে [cite: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ এবং তাসনিম জানিয়েছে, আলোচনার মূল প্রতিনিধি দল দেশে ফিরে গেলেও প্রযুক্তিগত দল এখনো সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছে।]। এই প্রযুক্তিগত দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। তাঁরা মূলত দুই দেশের মধ্যকার প্রস্তাবিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল ও খুঁটিনাটি কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
দীর্ঘ সময় ধরে এই ম্যারাথন আলোচনা চলার পরও ওয়াশিংটন ও তেহরান এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল দল বিদায় নিলেও সুইজারল্যান্ডের মাটিতে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা যেভাবে চলমান রয়েছে, তা ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতি ও সমঝোতার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে।
মন্তব্য করুন