আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইরাকের প্রস্তাবিত আট দেশের আঞ্চলিক সংলাপ ফোরামকে স্বাগত জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। রোববার বাগদাদ সফরকালে তিনি ইরাকি নেতাদের সাথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা, সীমান্ত সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বাগদাদে সফরকালে আরাকচি ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এরপর তিনি ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি, প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার হাইবাত আল-হালবুসির সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইরান, ইরাক এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) ছয়টি সদস্য রাষ্ট্রকে নিয়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপ তৈরির ইরাকি প্রস্তাব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেন আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে ঘনিষ্ঠ আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাগদাদ এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানান।
আব্বাস আরাকচি ইরাককে ইরানের ‘বন্ধু, প্রতিবেশী এবং কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি একটি বৃহত্তর সমাধানের পথে প্রথম পদক্ষেপ। তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তেহরানের লক্ষ্য তুলে ধরেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই সমঝোতা বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে। প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সাথে বৈঠকে আরাকচি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনে তেহরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। জাইদিও ইরাকের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন।
সফরে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাসের বকেয়া পাওনা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইরাকি ভূখণ্ড থেকে বিরোধী দলীয় গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজনের প্রস্তুতি। ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কোনো সংঘাত যেন ইরাকের মাটিতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইরাক সবচেয়ে বেশি আগ্রহী দেশগুলোর একটি। কারণ, নতুন করে কোনো সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা ইরাকের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও দেখা গেছে, তবুও বাগদাদ নিজেকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঝে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ইরাক একদিকে যেমন নিজেদের আঞ্চলিক ভূমিকা শক্তিশালী করতে চায়, অন্যদিকে দেশটি আরেকটি সম্ভাব্য সংঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সচেষ্ট।
মন্তব্য করুন