বিশ্বকাপের মঞ্চ মানেই বড় বড় তারকার আধিপত্য, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। কুরাসাও, কেপ ভার্দে বা ডিআর কঙ্গোর মতো দেশগুলো প্রথমবারের মতো বড় মঞ্চে অংশ নিয়েই বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়েছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছেন গোলকিপাররা। তাদের গ্লাভসের জাদুতে বড় বড় দলগুলো বারবার হোঁচট খেয়েছে।
ভোজিনহা: কেপ ভার্দের প্রাচীর ৪০ বছর বয়সী কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা এবারের বিশ্বকাপের এক উজ্জ্বল নাম। চার ম্যাচে ৮টি নিশ্চিত গোল সেভ করা এই গোলকিপার আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসিকেও আটকে দিয়েছিলেন। দলের পরাজয়ের মুহূর্তে হতাশ সতীর্থদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখার কাজটিও করেছেন তিনি।
সংগ্রামের গল্প: অরল্যান্ডো গিল ও আলিরেজা জার্মান-বধের নায়ক অরল্যান্ডো গিল একসময় চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়েছেন। সন্তানের চিকিৎসার জন্য নিজের বুট ও জার্সি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল তাকে। অন্যদিকে, ইরানের গোলকিপার আলিরেজার গল্পটা আরও কষ্টের। যাযাবর পরিবারে জন্ম নেওয়া আলিরেজা তেহরানে ঝাড়ুদারের কাজ থেকে শুরু করে গাড়ি ধোয়ার কাজ করে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল স্বপ্নের মতো।
রেকর্ড ও বিদায়: কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলয় রুম এক ম্যাচে ১৫টি সেভ করে গড়েছেন ইতিহাস। ঘানার গোলকিপারদের পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া। এছাড়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসি দেখিয়েছেন অসাধারণ দক্ষতা।
সবশেষে, বিশ্বকাপের এক অবিচ্ছেদ্য নাম গিলেরমো ওচোয়া। মেক্সিকোর এই কিংবদন্তি এবারের বিশ্বকাপে চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে মাঠে নেমে গোলপোস্টে চুমু খেয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। তাঁর এই বিদায় ছিল কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য এক আবেগঘন মুহূর্ত।
এই গোলকিপাররা কেবল গোল আটকাননি, বরং শিখিয়েছেন কীভাবে দারিদ্র্য ও সীমাবদ্ধতা জয় করে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নাম উজ্জ্বল করতে হয়। তাদের এই বীরত্বগাঁথা ফুটবল ইতিহাসে বহুদিন বেঁচে থাকবে।
মন্তব্য করুন