ইসলামিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে এই খাতে বিশ্বমানের স্কলার তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ও অনন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাদ্রাসা শিক্ষায় কারিগরি শিক্ষার সংযুক্তি: শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা টিভেট (TVET)-কে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, মাদ্রাসা সেক্টরে ফাজিল, কামিল, দাখিল ও আলিম স্তরের কারিকুলামের ভেতরে আমরা পর্যায়ক্রমে টিভেট অন্তর্ভুক্ত করব। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
রাজনৈতিক উর্ধ্বে ইসলামী শিক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, মাদ্রাসা ও ইসলামিক শিক্ষাকে কোনো নির্দিষ্ট দল, মত বা গোত্রের সীমাবদ্ধতায় আটকে রাখা হবে না। এটি হবে জাতীয় শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পবিত্র কুরআনের বাণীতেই শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, তাই যেকোনো উপায়েই শিক্ষার আলো সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। মাদ্রাসা সেক্টরের উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর এবং শিক্ষার এই ধারায় আধুনিক ও যুগোপযোগী পরিবর্তনের কাজ চলমান থাকবে।
অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট: ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টিভেট অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কেবল ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হবে না, বরং আধুনিক বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে—এটাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
মাদ্রাসা শিক্ষায় কারিগরি বা টিভেট শিক্ষা যুক্ত করার এই উদ্যোগকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
মন্তব্য করুন