রাজস্ব প্রশাসনে করা বিনিয়োগকে কোনো সাধারণ ব্যয় হিসেবে না দেখে, বরং এটিকে রাষ্ট্রের জন্য সর্বোচ্চ প্রতিদান পাওয়ার মতো একটি কার্যকর বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআর ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা অর্জনে প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজনে এই বড় চ্যালেঞ্জ এনবিআর গ্রহণ করেছে। রাজস্ব আদায়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে যেখানে মোট রাজস্বের ৫৫ শতাংশ আসত আমদানি শুল্ক থেকে, বর্তমানে তা কমে ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ উৎপাদনমুখী অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মোট রাজস্বের ৭৩ শতাংশ আসছে আয়কর ও ভ্যাট থেকে।
সম্মেলনে এনবিআর সদস্য সৈয়দ মুসফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন, যা এনবিআরকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি নির্দেশ করে। তিনি আরও জানান, এনবিআর প্রতি ১০০ টাকা রাজস্ব আদায়ে মাত্র ২১ পয়সা ব্যয় করে, যা আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। তাই রাজস্ব বোর্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। এনবিআর জানিয়েছে, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে টাস্কফোর্স গঠন, ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতির প্রয়োগ, অটোমেশন এবং উৎসে কর কর্তনসহ বিভিন্ন আধুনিক ও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন