২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেনকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে ফুটবল বিশ্বে এক বড়সড় চমক দেখিয়েছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে (Cabo Verde)। তবে এই ঐতিহাসিক ম্যাচ এবং কেপ ভার্দের এই রূপকথার গল্পের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের নামও। বিশ্বমঞ্চে প্রথমবার খেলতে আসা কেপ ভার্দে ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা যে জার্সি পরে মাঠ কাঁপিয়েছেন, তা তৈরি হয়েছে আমাদের বাংলাদেশে। বিশ্বমানের পোশাক তৈরির গৌরব ধরে রেখে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত এই জার্সি এখন ফুটবল বিশ্বে দারুণ প্রশংসিত হচ্ছে।
কেপ ভার্দের অফিশিয়াল কিট বা জার্সি স্পনসর হলো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড টেম্পো স্পোর্ট (Tempo Sport)। বিশ্বমঞ্চের এই ঐতিহাসিক জার্সিগুলো তৈরি ও উৎপাদনের (Manufacturing) জন্য তারা মূলত বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে। কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’ ডাকনাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নেভি ব্লু এবং রয়্যাল ব্লু রঙের মিশ্রণে তৈরি এই জার্সিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত ‘DRY+ Technology’। এই বিশেষ ফেব্রিক বা কাপড় অত্যন্ত হালকা, শ্বাসপ্রশ্বাসযোগ্য (breathable) এবং ঘাম শোষণকারী, যা তীব্র ম্যাচের মধ্যেও ফুটবলারদের সর্বোচ্চ আরাম দেয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টস শিল্পের (RMG) দক্ষতা এখন কেবল সাধারণ পোশাকেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ আসরের হাই-পারফরম্যান্স স্পোর্টসওয়্যার তৈরিতেও বাংলাদেশ যে শীর্ষস্থানীয়, কেপ ভার্দের জার্সি তারই বড় প্রমাণ।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে স্পেনকে রুখে দেওয়ার ম্যাচটি কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসের অবিসংবাদিত সেরা অর্জন। লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি, রদ্রিদের মতো তারকাখচিত স্পেন দল যেখানে ৭০ শতাংশের বেশি বল পজিশন রেখে একের পর এক আক্রমণ করেছে, সেখানে কেপ ভার্দের ফুটবলাররা ডিফেন্সে অবিশ্বাস্য দেওয়াল তুলে দাঁড়ায়। বিশেষ করে কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা (Vozinha) একাই স্পেনের বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নসাৎ করে দেন। পুরো ৯০ মিনিট বীরত্বের সাথে লড়াই করে ম্যাচটি ০-০ ড্র করার পর যখন কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা মাঠে উল্লাসে মেতে ওঠেন, তখন তাদের গায়ে জড়ানো জার্সিতে জ্বলজ্বল করছিল বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সুনাম।
মন্তব্য করুন