দেশের রাষ্ট্রমালিকানাধীন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এবং লোকসানি কলকারখানাগুলো সচল করতে বড় ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কারখানাগুলোতে নতুন করে প্রাণ ফেরাতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের ১৪টি স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৮৬টি বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা পড়েছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মূলত উৎপাদনমুখী শিল্পের প্রসার এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল উৎপাদন, ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো আধুনিক ও সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং হালকা প্রকৌশল খাতের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে সরকার দেশের ৪৪টি সরকারি কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার বা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে পরিচালনার একটি তালিকা তৈরি করেছিল। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে বিএসএফআইসি, বিটিএমসি, বিসিআইসি, বিজেএমসি এবং বিএসইসির অধীনে থাকা বিভিন্ন কারখানা।
বর্তমানে বিডা কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখছে যাতে স্বচ্ছতার সাথে দক্ষ বেসরকারি খাতের হাতে এই কারখানাগুলোর দায়িত্ব হস্তান্তর করা যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি এই বিনিয়োগ পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে দেশের শিল্পখাত এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এটি একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন