মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে এবার উপসাগরীয় দেশগুলোকে সরাসরি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যদি কোনো উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা প্রদান করে, তবে সেই দেশগুলোকেও এই সংঘাতের অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তারাও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এই হুমকির কয়েক ঘণ্টা আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের সাথে তাদের সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করার এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা দেয়। আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় আবুধাবি তাদের এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা এবং দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সংঘাত নিরসনে হরমুজ প্রণালির পথ আবার স্বাভাবিক করতে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখন পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক মন্তব্যে আলোচনা বন্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে 'নতুন মার্কিন ভূখণ্ড' হিসেবে উল্লেখ করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। ট্রাম্পের এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন বাহিনীকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করার অর্থই হলো সরাসরি তাদের সামরিক অভিযানে শামিল হওয়া। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ যদিও আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে দেবে না, তবে আবদোল্লাহি এই নিশ্চয়তার বিষয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিতে যে বিপুল পরিমাণ সামরিক বিমান এবং জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান রয়েছে, তা সেই দেশগুলোর অজ্ঞাতসারে অবস্থান করা সম্ভব নয়। ইরান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে পুরোপুরি অবগত বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে সৌদি আরব, কুয়েত এবং বাহরাইনসহ বেশ কিছু দেশ ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। যদিও এসব দেশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বা সামরিক সম্পৃক্ততার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক আফরা আল হামেলি জানিয়েছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে আপাতত ইরানের সাথে সব ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে আবুধাবি অভিযোগ করেছিল যে তাদের লক্ষ্য করে ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যদিও পরবর্তীতে তারা জানায় যে সেই ক্ষেপণাস্ত্রের মূল লক্ষ্য ছিল সমুদ্রপথে চলাচলকারী কোনো জাহাজ। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা এখন অনেকের মনেই দানা বেঁধেছে।
মন্তব্য করুন