শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে এই শিক্ষকদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অপরাধের প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপাচার্য বলেন, কাউরির প্রতি কোনো ধরনের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার ইচ্ছে তাদের নেই, তবে কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন ওই শিক্ষকরা এমন কাজ করতে চাইছেন তা বোধগম্য নয়। রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে কেউ যুক্ত থাকলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের মাধ্যমে তাদের বিচার নিশ্চিত করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ আমলের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, অতীতে ভিন্নমতের শিক্ষকদের ওপর কীভাবে নজরদারি ও নির্যাতন চালানো হতো, সাদা দলের সভায় গোয়েন্দাগিরি করা হতো এবং শিক্ষকদের তালিকা করে কীভাবে হুমকি দেওয়া হতো।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি রোমন্থন করে ঢাবি ভিসি বলেন, শিক্ষার্থীদের বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার দাবি প্রথমে নৈতিক সমর্থন পেলেও পরবর্তীতে সরকারের নির্যাতন বাড়তে থাকায় তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ১৯৭১ সালের গণহত্যার সঙ্গে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ওপর চালানো নিপীড়নের তুলনা করে তিনি বলেন, একাত্তরে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি আর চব্বিশে পেয়েছি স্বাধীনতার মর্যাদা সমুন্নত রাখার নতুন প্রত্যয়।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ১৭ বছরের জঞ্জাল ও দীর্ঘদিনের অনিয়ম মাত্র পাঁচ মাসে দূর করা সম্ভব নয়, এর জন্য সরকারের পাশে থেকে সময় দিতে হবে। নতুন এই বাংলাদেশে কোনো ধরনের বৈষম্য, দমন-পীড়ন বা স্বৈরাচারের স্থান হবে না উল্লেখ করে তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন