যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক বিরোধ অবসানের কোনো লক্ষণই দৃশ্যমান নয়, বরং পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল রূপ ধারণ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার টেবিলে বসিয়ে তেহরানের সঙ্গে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় সেই আশার আলো নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মার্কিন সরকারের এক হেভিওয়েট মন্ত্রী খোদ এই চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘এবিসি নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় জানিয়েছেন যে, তেহরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি নাও হতে পারে। তবে চুক্তি না হলে ওয়াশিংটন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বলেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। রাইটের বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান যদি মার্কিন শর্ত মেনে আলোচনায় না আসে, তবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় দফায় দফায় সামরিক হামলা চালিয়ে সেগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল হতে পারে।
অবশ্য ইরান বরাবরই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, তারা কোনো পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে না, বরং তাদের এই কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিচালিত হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন বা তেল আবিব তেহরানের এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয়। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি বা প্রয়োগ করতে না পারে, মার্কিন প্রশাসন সেই পথ চিরতরে বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে ইরানে যদি কখনো রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তন আসে, তবেই কেবল নতুন করে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
এদিকে গত জুলাই মাসে উভয়পক্ষের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া, মাঝদরিয়ায় তেলবাহী ট্যাংকার আটক করা এবং নিয়মিত পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হানার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল বর্তমানে বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের এই চরম উত্তাপের মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘খুব সামান্য একটি বিষয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন যে, সরাসরি মাঠের লড়াই বন্ধ থাকায় এটিকে পুরোপুরি যুদ্ধ বলা চলে না। তবে বর্তমান এই সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে একা লড়তে হবে না উল্লেখ করে ক্রিস রাইট আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য মিত্রশক্তিও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে এসে দাঁড়াবে।
মন্তব্য করুন