আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় দুই তদন্ত প্রতিবেদনে আকাশ-পাতাল ফারাক ও নজিরবিহীন অসঙ্গতির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ফেনীর তোফাজ্জল হোসেন তজু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রথম তদন্তে গুরুতর সব অপরাধ ও হত্যার অভিযোগ আনা হলেও, পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে করা পুনর্তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রাথমিক সত্যতা বা প্রমাণ মেলেনি। অথচ দ্বিতীয় তদন্তে অভিযোগের ভিত্তিহীনতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও আগের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই মামলার আনুষ্ঠানিক চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হয় এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, ২০০৯ সালের মূল এজাহার কিংবা রাজাকারের তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও মূলত বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দখলের উদ্দেশ্যে তোফাজ্জল হোসেনকে এই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তোফাজ্জল হোসেন আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর এই চার্জ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করেন। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে চার্জ গঠন করা হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো নিরপরাধ মানুষকে অযথা হয়রানি করা হবে না। ইতোমধ্যে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল-১ এই বিষয়ে আগামী ৩১ আগস্ট রায় বা আদেশের দিন ধার্য করেছেন।