দেশের বাজারে সোনার গয়না কিনতে আগ্রহীদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্থানীয় বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। নতুন এই সিদ্ধান্তে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে, যা আজ শুক্রবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে। বিশ্ববাজারে দামের অস্থিরতা ও স্থানীয় পর্যায়ে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের সরবরাহ বাড়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, সবথেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায় নেমে এসেছে। একদিন আগেও এই মানের সোনার জন্য ক্রেতাদের গুণতে হতো ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকায়।
মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতনের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল পরিস্থিতির কারণে চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ববাজারে সোনার দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছিল। তবে সম্প্রতি দামের সংশোধন বা প্রফিট টেকিংয়ের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪ হাজার ৪৬৪ ডলারে নেমে এসেছে। এক মাস আগেও যা ৫ হাজার ডলারে উপরে অবস্থান করছিল।
সোনার দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যারা বিয়ের মৌসুম বা উৎসবের জন্য গয়না তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন। গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে এক লাফে সোনার দাম ভরিতে ১৬ হাজার টাকার বেশি বেড়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড তৈরি করেছিল। সেই তুলনায় বর্তমানের এই দাম কমার বিষয়টি বাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সোনার দাম কমলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। জুয়েলার্স সমিতির ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম আগের মতোই ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা রাখা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য মানের রুপার দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশ্ববাজারে নিয়মিত ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে আগামীতে সোনার দাম আরও কমবে নাকি আবার বাড়বে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
মন্তব্য করুন