ভারতে জেন-জি শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ ও পুলিশের অভিযানের প্রেক্ষাপটে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিনভর ধর্না, বিক্ষোভ ও বিরোধী নেতাদের আটকের নাটকীয়তার পর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি দাবি তুলে ধরেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এর মাধ্যমে বুধবারও দেশটির উভয় সংসদে এই ইস্যুতে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধীসহ শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের দিল্লি পুলিশ আটক করে এবং পরে রাতের দিকে তাদের ছেড়ে দেয়।
আটক থাকা অবস্থাতেই এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি পেশ করেন রাহুল গান্ধী। তার দাবিগুলো হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, সংসদে অবিলম্বে এই সংকট নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এবং দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থায় দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার। রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন যে, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে এবং বারবার কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে।
এদিকে, রাহুল গান্ধীর এই দাবি ও অবস্থান পরিবর্তনের তীব্র সমালোচনা করেছে শাসকদল। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেছেন যে, রাহুল গান্ধী আগের সমঝোতা থেকে সরে এসে এখন হঠাৎ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন, যা দুর্ভাগ্যজনক। পাশাপাশি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন যে, সরকার সংসদে আলোচনার পূর্ণ প্রস্তুতি নিলেও কংগ্রেস রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের এই কড়া অবস্থানের মুখে বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় চরম হট্টগোল ও উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন