উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জোটটি সরাসরি বিলুপ্ত না হলেও ইউরোপের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে। যদিও তাত্ত্বিকভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতৃত্বে ন্যাটো টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু ওয়াশিংটনের এই বিচ্ছেদ জোটের কার্যকারিতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বর্তমানে ইউরোপের সদস্য দেশগুলো সামরিক ও নিরাপত্তার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে স্যাটেলাইট ইন্টেলিজেন্স, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং সামরিক পুনরুদ্ধার অভিযানের মতো মহাকাশ-ভিত্তিক প্রযুক্তিগুলোতে ইউরোপ ওয়াশিংটনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে থাকে। এছাড়া সামরিক রসদ সরবরাহ এবং সমন্বিত বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ খাতে মার্কিন সহায়তা ছাড়া ইউরোপ কার্যত পঙ্গু অবস্থায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা অনুযায়ী, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই জোট থেকে বেরিয়ে যায়, তবে ইউরোপকে সামরিক খাতের এই বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে অন্তত এক দশক বা তার চেয়েও বেশি সময় ব্যয় করতে হবে। শুধুমাত্র মার্কিন সামরিক সক্ষমতার সমকক্ষ হতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পগুলো এত দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা রাখে না। এর পাশাপাশি ইউরোপের অধিকাংশ দেশের সেনাবাহিনী এখন তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে, যেখানে তারা প্রয়োজনীয় সেনা নিয়োগ বা বর্তমান সৈন্যদের ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না।
তবে এই ধরনের বিপর্যয় বাস্তবে ঘটিয়ে ফেলা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে একতরফাভাবে বা নিজের ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নিতে পারেন না। আইনি কাঠামো অনুযায়ী, ন্যাটো থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করতে হলে মার্কিন সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন অথবা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আইন প্রয়োজন হয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অদূর ভবিষ্যতে এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের অধিকাংশ আইনপ্রণেতা এখনও ন্যাটোর প্রতি জোরালো সমর্থন বজায় রেখেছেন।
মন্তব্য করুন