দেশের তরুণ সমাজের তীব্র ছাত্র আন্দোলন এবং নিট-ইউজি প্রশ্ন ফাঁস বিতর্কের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ওড়িশার প্রভাবশালী এই বিজেপি নেতা ২০২১ সাল থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও ক্রমবর্ধমান জনরোষ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কাছে নতি স্বীকার করেই তাকে এই পদ ছাড়তে হয়েছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং সরকারের ওপর তরুণ প্রজন্মের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট প্রশমিত করাই ছিল এই পদত্যাগের মূল রাজনৈতিক কৌশল।
চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই মূলত সংকটের সূত্রপাত হয়। পরীক্ষার কিছুদিন আগে পরীক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া একটি ‘গেজ পেপার’-এর সঙ্গে মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ার পর ১২ মে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি পরীক্ষাটি বাতিল করে এবং সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সিবিআই তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত নতুন পরীক্ষা নেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও রাজপথ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন থামানো সম্ভব হয়নি।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখানে ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ আর সরকারের কোনো কথায় কান দিতে প্রস্তুত ছিল না। বিশেষ করে সংসদ অধিবেশন চলাকালীন এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো সংসদীয় এজেন্ডাকে অচল করে দিতে পারত। সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল এই যে, এই পরীক্ষায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তরুণ ও পরিবারগুলো মূলত বিজেপির মূল ভোটার ভিত্তি। উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই যুবসমাজ যদি ব্যবস্থার ওপর থেকে পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলে, তবে তার দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক পরিণতি হতে পারে দলটির জন্য ক্ষতিকর।
এর আগে জানুয়ারিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা প্রচার সংক্রান্ত প্রবিধান প্রত্যাহার এবং মে মাসে সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ত্রুটির মতো ঘটনাগুলো সরকারের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে দলীয় সূত্রগুলো বারবার জোর দিয়ে বলছে, ওড়িশার প্রভাবশালী ওবিসি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই পদত্যাগকে তার সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এড়ানো এবং সরকারের প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডাকে অক্ষুণ্ণ রাখাই ছিল মোদি সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার, যার পরিণতিতেই এই বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
মন্তব্য করুন