যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত কোন দিকে মোড় নেবে তা বুঝতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীরা। এই প্রতীক্ষার প্রভাবেই মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য কমেছে, যদিও এর আগে দাম বেড়ে আড়াই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছিল। মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ কমে চার হাজার ৩৭৬ দশমিক এক ডলারে নেমে আসে। অথচ কার্যদিবসের শুরুতে দাম বেড়ে চার হাজার ৪৩৪ দশমিক ৮৪ ডলারে উঠেছিল, যা গত গত ৫ জুনের পর থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড এবং ১০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ অতিক্রম করার একটি প্রচেষ্টা ছিল। অন্যদিকে, মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মার্কেটে দাম প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৪৪১ দশমিক ১০ ডলারে স্থির হয়েছে। জেনার মেটালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র মেটালস স্ট্র্যাটেজিস্ট পিটার গ্র্যান্টের মতে, মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই বাজার এখন চলতি সপ্তাহের মূল্যস্ফীতির রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছে। বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বা সিপিআই সহনীয় মাত্রায় থাকলে তা স্বর্ণের বাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করছেন। চলতি সপ্তাহের বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক বা পিপিআই প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারিত হবে। এর আগে গত শুক্রবার প্রকাশিত জুলাই মাসের দুর্বল কর্মসংস্থানের রিপোর্টের পর বিনিয়োগকারীরা আগামী মাসে ফেডের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের ধারণা বদলে ফেলেন, যার তাৎক্ষণিক প্রভাবে সেদিন একলাফে স্বর্ণের দাম ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। পিটার গ্র্যান্ট আরও যোগ করেন যে গত সপ্তাহের হতাশাজনক জব রিপোর্টের সুবাদে সেপ্টেম্বরে সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে এখনও বেশ শক্তিশালী দর বজায় রয়েছে। তবে সিএমই ফেডওয়চ টুল অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখনো সেপ্টেম্বর মাসে সুদহার বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ৭৯ শতাংশ সম্ভাবনা ধরে রাখছেন। ক্লিভল্যান্ড ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যাম্যাক সোমবার মন্তব্য করেছেন যে ভবিষ্যতে হঠাৎ করে সুদের হার অনেক বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি এড়াতে এখন থেকেই ধীরে ধীরে তা বাড়ানোর উপযুক্ত সময় এটি। উল্লেখ্য যে, অর্থনৈতিক বাজারে সাধারণ উচ্চ সুদহারের পরিবেশে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন বিনিয়োগের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বলতে গেলে, শান্তি চুক্তি নিয়ে তেহরানের প্রস্তাবিত শর্তের বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের নতুন দাবি তুলে ধরেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামও বর্তমানে গত এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে।