দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আগামী ১৬ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেছিলেন। সেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে আশানুরূপ ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার পর এবার প্রথম ধাপে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং এই মূল কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। কিশোরগঞ্জ থেকে কার্যক্রম শুরুর পর পর্যায়ক্রমে আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশের সবকটি উপজেলা ও ইউনিয়নে এই জনকল্যাণমূলক সেবা সম্প্রসারিত করা হবে। বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও সঠিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা পরবর্তীতে আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই কর্মসূচির মূল ও প্রধান লক্ষ্য হলো প্রকৃত ও দুস্থ দরিদ্র পরিবারগুলোকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পদ্ধতির মাধ্যমে সঠিক সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তা সরাসরি তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সঠিকতা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাইয়ের সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারা। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করবে, যেখানে কারিগরি সহায়তা দিতে আইসিটি ও পরিসংখ্যান বিভাগের কর্মকর্তারাও সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবেন। শুধু তাই নয়, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারদের নেতৃত্বে পৃথক তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে যা পুরো প্রক্রিয়াকে গতিশীল রাখবে। জাতীয় পর্যায়ে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যারা পুরো প্রকল্পের নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো দেখভাল করবেন। এছাড়াও খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিতভাবে এই কর্মসূচির সার্বিক অগ্রগতি সরাসরি পর্যালোচনা করবেন এবং প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
মন্তব্য করুন