ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের টানা এক যুগ (১২ বছর) পূর্তি উদযাপনে বর্ণিল উৎসবমুখর পরিবেশ, ঠিক তখনই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত রাজ্য মণিপুরে নতুন করে আছড়ে পড়েছে ভয়াবহ জাতিগত সহিংসতার ঢেউ। দীর্ঘ প্রায় এক মাস আগে অপহৃত হওয়া ছয় নাগা যুবকের ক্ষতবিক্ষত ও বিকৃত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো রাজ্য এখন ক্ষোভে ফুঁসছে। বিভিন্ন জেলায় রাতভর অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকালে মণিপুরের কাংপোকপি জেলার একটি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নিখোঁজ ওই ছয় নাগা যুবকের লাশ উদ্ধার করে ভারতের যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় নাগা জাতিগত সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ‘কুকি ন্যাশনাল আর্মি’ নামক একটি কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠী আলোচনার আড়ালে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সেনাপতি ও উখরুলসহ নাগা অধ্যুষিত জেলাগুলোতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে আসে, বহু সরকারি যানবাহন ও স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী ইম্ফল এবং জওহরলাল নেহরু চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে মণিপুরের এই নতুন ও জটিল রক্তক্ষয়ী সংকটের মধ্যেই দিল্লিতে মোদি সরকারের এক যুগ পূর্তির জমকালো রাজনৈতিক কর্মসূচি চলায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং ভারতের কেন্দ্রীয় বিরোধী দলগুলো বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, মণিপুর বিগত কয়েক বছর ধরে জ্বললেও এবং একের পর এক জাতিগত গোষ্ঠী সংঘাতে জড়ালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান বের করতে পারেনি। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যখন নতুন করে গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই উৎসবমুখর নীরবতা মণিপুরের সাধারণ মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ ও নিরাপত্তাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
মন্তব্য করুন