ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে তৈরি হওয়া দূরত্ব ঘুচিয়ে সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে রাজা তৃতীয় চার্লসের কঠোর শর্ত মেনে নিতে স্ত্রী মেগান মার্কেলকে রাজপুত্র হ্যারি প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে এক নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিনোদন ও লাইফস্টাইলভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘হিট ওয়ার্ল্ড’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে হাইগ্রোভ হাউসে রাজা চার্লসের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকের মুখোমুখি হওয়ার পর প্রিন্স হ্যারি উপলব্ধি করেছেন যে, ভবিষ্যতে রাজপরিবারের সঙ্গে যেকোনো ধরনের পুনর্মিলন কেবল রাজার নির্দিষ্ট শর্ত অনুসারেই সম্ভব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজা চার্লস ঘন ঘন ঘটা মতবিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝির পুরোনো অধ্যায় চিরতরে শেষ করে পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একটি ধারাবাহিক ও সুনির্দিষ্ট প্রচেষ্টা দেখতে চান। রাজপরিবারের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমটি প্রকাশ করেছে যে, রাজা চার্লস স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর কোনো অপ্রয়োজনীয় ভুল বোঝাবুঝি দেখতে চান না, বরং সরাসরি ইতিবাচক অগ্রগতি চান। তিনি রাজপরিবারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর, তবে এর জন্য তার নির্ধারিত শর্তাবলির কঠোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও সমানভাবে আবশ্যক।
শুধু তাই নয়, নিজের শর্তগুলো যথাযথভাবে সম্মানিত না হলে ভবিষ্যতে রাজপরিবারে ফিরে আসার বা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর সমস্ত পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও রাজা চার্লস একটি কঠোর সতর্কবার্তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ‘চার্লস কঠোর অবস্থান নিয়ে হ্যারিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তাদেরকে রাজার নিয়ম মেনেই চলতে হবে, অন্যথায় ভবিষ্যতে সুযোগের সব দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। হাইগ্রোভ হাউসের এই বৈঠকটি হ্যারির জন্য এমন এক সংকটময় সুযোগ ছিল, যা কোনোভাবেই হাতছাড়া করা সম্ভব ছিল না।’
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বৈঠকের পর থেকেই হ্যারি বর্তমানে মেগান মার্কেলকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে হলে তাদের নিজেদের পুরনো কৌশল ও অবস্থান থেকে সরে এসে পরিবর্তন আনা জরুরি। সূত্রের ভাষায়, ‘হ্যারি ভালো করেই জানেন, সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে তাকে এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে হবে। পরিবারে পুনরায় গ্রহণযোগ্যতা পেতে তাদের রাজার নিয়ম মেনে চলাই একমাত্র পথ—মেগানকে এই বিষয়টি বোঝাতে তিনি যথেষ্ট সময় ব্যয় করছেন। কারণ তাদের হাতে এটাই হয়তো শেষ সুযোগ।’
তবে রাজপরিবারকে কেন্দ্র করে চাউর হওয়া এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাকিংহাম প্যালেস কিংবা ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অব সাসেক্স (প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল)-এর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মার্কেল রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যের দায়িত্ব ও পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান। এরপর বিভিন্ন বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার ও গণমাধ্যমে রাজপরিবারের ভেতরের অভিজ্ঞতা এবং নিজেদের তিক্ততার কথা প্রকাশ করেন তারা, যার ফলে ব্রিটিশ রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে এই দম্পতির সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। বর্তমান সময় পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট আপস বা সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার দৃশ্যমান কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তারও কোনো জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন