কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৬০ কেজি গাঁজা বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই রেশ কাটতে না কাটতেই উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন খোদ থানার ওসি এমএ বারী।
মঙ্গলবার দুপুরে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় ওসিকে।
কী ঘটেছিল সভায়? সভায় দাউদকান্দিতে মাদক পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করার সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন সভায় প্রকাশিত দৈনিক যুগান্তরের একটি সংবাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই প্রতিবেদনে দাউদকান্দি থানার এসআই মো. ইমাম উদ্দিন এবং এএসআই হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ১৬০ কেজি গাঁজা বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন দাউদকান্দি থেকে মাদক নির্মূল হবে কীভাবে? পুলিশ যেখানে সরাসরি মাদকের সাথে জড়িত, সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়। এই দায়ভার কোনোভাবেই ওসি এড়াতে পারেন না।”
তিনি আরও বলেন, সকালে যুগান্তরে প্রকাশিত এই সংবাদটি যে কেউ সার্চ করলেই দেখতে পাবেন। এ সময় ওসি এমএ বারী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং নিশ্চুপ ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ: সভায় উপস্থিত বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংবাদকর্মীরা একযোগে অভিযোগ করেন যে, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার না করায় এলাকায় মাদক ও অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দাউদকান্দির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক বলে সভায় মন্তব্য করা হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলামসহ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের মতো একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ এবং এ নিয়ে ওসির ভূমিকা জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কতটা ঝুঁকিতে ফেলছে বলে আপনি মনে করেন?
মন্তব্য করুন