টাঙ্গাইলের সখীপুরের সাধারণ মানুষকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। সখীপুরে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্পষ্টভাবে বলেন যে, আপনারা আপনাদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করুন, কিন্তু কোনোভাবেই আমার সাধারণ জনগণকে হয়রানি করবেন না; কারণ এ দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সখীপুরে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য আলোচনা সভায় মন্ত্রী আরও বলেন যে, অতীতে যে বন আইন বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, সেই আইন বাতিলের দাবিতে তিনি সংসদে ও সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দুবার এই বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন এবং প্রয়োজনে আবারও সুযোগ পেলে সংসদে কথা বলবেন। এ ছাড়াও তিনি পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনে আবারও কথা বলবেন বলে জানান। সখীপুরের সাধারণ মানুষকে যেকোনো উপায়ে এই ভোগান্তি ও আইনগত জটিলতা থেকে মুক্ত করা তার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, ইনশাআল্লাহ তিনি তা সফলভাবে সম্পন্ন করবেন এবং এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এলাকার সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান যে, সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজটি সরকারি করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের বদান্যতায় বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। যেসব এলাকার মানুষ এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে কিছুটা বঞ্চিত রয়েছে, তাদের একটু ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এলাকার একটি প্রান্তও উন্নয়নবঞ্চিত থাকবে না। সখীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরকার শহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সখীপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য ও সুসজ্জিত শোভাযাত্রা।
মন্তব্য করুন