হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৈধ কাগজপত্র ও টিকিট থাকার পরও যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে অতিরিক্ত ব্যাগেজ, বোর্ডিং পাস ও টিকিট আপগ্রেডের নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্যাসেঞ্জার ও গ্রাউন্ড সার্ভিস বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মীর গড়া একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে। যুগান্তরের মাসব্যাপী অনুসন্ধানে এই অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে, যার ফলে যাত্রী চরম হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিমানবন্দর প্যাসেঞ্জার সার্ভিস বিভাগের একজন কাউন্টার সুপারভাইজার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই চক্রে গ্রাউন্ড সার্ভিস সুপারভাইজার (জিএসএস) মো. জসিম উদ্দিন, গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট (জিএসএ) মোহাম্মাদ বুরহান উদ্দিন ও মিজানুর রহমান ফিরোজের মতো কর্মীরা জড়িত। গত ১৮ আগস্ট বিজি-৩০৫ ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাগ অন্য যাত্রীর গ্রুপের সঙ্গে ট্যাগ করে দেওয়ার ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ে। এছাড়া ২১ জুলাই আবুধাবিগামী ৯ জন বৈধ যাত্রীর কাছ থেকে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা দাবি করা, সিঙ্গাপুর ফ্লাইটে ব্যাগেজের টাকা আত্মসাৎ এবং টরন্টোগামী ফ্লাইটে অর্থের বিনিময়ে ইকোনমি থেকে বিজনেস ক্লাসে আসন আপগ্রেড করার মতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, যাত্রীসেবা কোনোভাবেই অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হতে পারে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে সিস্টেম লগ ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে বিমানের গ্রাহকসেবা বিভাগের পরিচালক বদরুল হাসান লিটন জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে এয়ারপোর্ট সার্ভিস বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সত্যতা মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন