পুলিশবাহিনীর জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রাশিয়া থেকে ৫৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা দুটি আধুনিক হেলিকপ্টারের একটিও শেষ পর্যন্ত বুঝে পাচ্ছে না বাংলাদেশ সরকার। জি-টু-জি (গভর্নমেন্ট টু গভমেন্ট) পদ্ধতিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে এই হেলিকপ্টার আমদানির বিপরীতে ইতোমধ্যে চার বছরে প্রায় ৪২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে আটকে গেছে পুরো প্রক্রিয়া। জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আগে থেকেই জানা সত্ত্বেও কোটি কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে ১৭ কোটি টাকার বেশি কমিশন। বর্তমানে অর্থ ও পণ্য—উভয় দিক থেকেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে রাষ্ট্র।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর রুশ কোম্পানি ‘জেএসসি হেলিকপ্টার্স’-এর কাছ থেকে ‘এমআই১৭১এ২’ মডেলের দুটি হেলিকপ্টার কেনার জন্য কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই সরাসরি চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩ অর্থবছরে মোট মূল্যের ৭০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। অথচ ২০২২ সালের শুরুর দিকেই ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রুশ যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পরও দীর্ঘদিন তা গোপন রেখে পরবর্তীতে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ২০২৪ সালের শেষ দিকেও (১৫ থেকে ২৫ ডিসেম্বর) আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রিশিপমেন্ট ইন্সপেকশনের (পিএসআই) জন্য রাশিয়া সফর করে আসে।
গত বছরের জানুয়ারিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানোর পর আমলাতান্ত্রিক নড়াচড়া শুরু হয়। তবে বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে রাশিয়ার এই হেলিকপ্টার আপাতত গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চুক্তির শর্ত এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জেনেশুনেও অর্থ পরিশোধ করার নেপথ্য বড় কোনো দুর্নীতি বা ব্যক্তিস্বার্থ জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান ও মামলা হয়েছে। তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও পুলিশ প্রধানের ঘনিষ্ঠ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ লোপাট ও জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন