গত দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ব্যক্তিগত দ্বৈরথের উপহার দিয়ে গেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মাঠে তাঁরা একে অপরের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ফুটবলপ্রেমীদের বহুদিনের সুপ্ত বাসনা ছিল এই দুই কিংবদন্তিকে একই জার্সিতে বা একই দলের হয়ে খেলতে দেখার। ভক্তদের সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে। আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা কার্লোস তেভেজের বিদায়ী ম্যাচে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে দেখা যেতে পারে মেসি ও রোনালদোকে।
টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক মার্সেলো পালাসিওসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামছেন কার্লোস তেভেজ। খেলোয়ারি জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানতে বছর শেষ হওয়ার আগেই নিজের ছোটবেলার ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের বিখ্যাত হোম ভেন্যু ‘লা বম্বোনেরা’য় এই বিশেষ সম্মাননা ম্যাচের আয়োজন করবেন তিনি। ২০২২ সালের জুনে বুট জোড়া তুলে রাখার প্রায় সাড়ে চার বছর পর অবশেষে নিজের প্রিয় মাঠে এই বিদায়ী আয়োজন করতে যাচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার।
তেভেজের ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর সঙ্গে একই দলে খেলা প্রায় ৬০ জন বিশ্বমানের তারকাকে এই ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আমন্ত্রিতদের এই দীর্ঘ তালিকায় নাম রয়েছে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো উভয়েরই। ক্যারিয়ারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে রোনালদোর সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে মেসির সঙ্গেও দারুণ সময় কাটিয়েছেন তেভেজ। দুই তারকার সঙ্গেই তাঁর রয়েছে গভীর বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক। আর সে কারণেই লা বম্বোনেরার এই বিদায়ী ম্যাচে তাঁদের উভয়ের উপস্থিতি এবং একই একাদশে তাঁদের মাঠ ভাগাভাগি করার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতিমধ্যে বোকা জুনিয়র্সের সভাপতি হুয়ান রোমান রিকেলমের সঙ্গে কথা বলে লা বম্বোনেরায় এই ম্যাচ আয়োজনের সবুজ সংকেত পেয়েছেন তেভেজ। ভেন্যু হিসেবে এই স্টেডিয়ামটি তেভেজের কাছে অত্যন্ত আবেগঘন, যেখানে তিনি ২৭৯টি অফিসিয়াল ম্যাচে ৯৪ গোল ও ৫৬টি অ্যাসিস্ট করে ১১টি শিরোপা জিতেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে রোজারিও সেন্ট্রাল ও ইন্দিপেন্দিয়েন্তের পর সবশেষ তায়েরেসের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তেভেজ এখন নতুন কোচিং অ্যাসাইনমেন্টের অপেক্ষায় থাকার পাশাপাশি নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের একটি জাঁকজমকপূর্ণ ও স্মরণীয় ইতি টানতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ডিসেম্বরে লা বম্বোনেরার সবুজ গালিচায় মেসি ও রোনালদোকে একই দলের হয়ে খেলতে দেখা গেলে তা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও স্মরনীয় এক মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন