স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে জাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত. বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানান আলভী. তবে দীর্ঘ শুনানি শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে আদালত তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন, যা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ নিশ্চিত করেছেন. এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা. পরবর্তীতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন. ওই দিন রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে’ তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ এনে এই মামলাটি দায়ের করেন.
শুনানির সময় জাহের আলভীর পক্ষে ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়াসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী জামিন চেয়ে সওয়াল-জওয়াব করেন, অন্যদিকে বাদীপক্ষ থেকে এই জামিনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়. আসামিপক্ষের জামিন আবেদনে দাবি করা হয় যে, আলভী এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন এবং প্রেমের বিয়ে করার কারণে বাদী ব্যক্তিগত জিদ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এই হয়রানিমূলক মামলাটি দায়ের করেছেন. এছাড়া এজাহারে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়.
এর পাশাপাশি অভিনেতার আইনজীবীরা তাঁর গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন. আবেদনে বলা হয়, আলভী ক্রনিক অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিস বা গুরুতর হাঁপানি রোগে ভুগছেন এবং গত ১৩ জুন অ্যাজমা অ্যাটাক হওয়ায় তাঁকে বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগেও নেওয়া হয়েছিল. তাঁর এই বর্তমান শারীরিক অবস্থায় জেল-হাজতের বন্ধ জায়গায় আটকে রাখা সমীচীন হবে না এবং এতে তাঁর শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে জামিনের জোরালো যুক্তি দেওয়া হয়. তবে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে জামিন আবেদনটি নাকচ করে দেন. প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া আলভী ও ইকরার সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে এবং এর আগে গত ৪ জুন এই একই মামলায় জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন.
মন্তব্য করুন