ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপাল আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আর কোনো অনুদান বা দাতব্য সাহায্য চায় না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী বড় দেশগুলোর কাছে স্পষ্ট আইনি ও নৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। হিমালয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা, হড়পা বান ও ভূমিধসের পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনকে মূল দায়ী করে কাঠমান্ডু জানিয়েছে, জলবায়ু সংকটে নেপালের ভূমিকা নজিরবিহীনভাবে কম হলেও এর চরম মূল্য দিতে হচ্ছে এই পাহাড়ি দেশটিকে। প্রতিবেশী দেশটির পাশে দাঁড়িয়ে ভারত ইতোমধ্যে দুই দফায় প্রায় সাড়ে ৪৭ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠালেও নেপাল এখন কেবল ত্রাণের ওপর নির্ভর না করে কার্বন নিঃসরণকারী বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্থানীয় কান্তিপুর টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে জানান, নেপালের বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা ভুল হবে। এতদিন আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর জোর দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কূটনৈতিক পথে হাঁটবে কাঠমান্ডু। তার যুক্তি, শিল্পায়ন ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য যারা প্রধানত দায়ী, তাদেরই হিমালয়ের হিমবাহ গলন ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেপালের এই নতুন ও কড়া কূটনৈতিক অবস্থান ভবিষ্যতে ভারতসহ বড় দেশগুলোর সঙ্গে জলবায়ু কূটনীতিতে সম্পূর্ণ নতুন এক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
মন্তব্য করুন