লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনাদের চলমান উপস্থিতির জন্য সরাসরি হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ওই মার্কিন কর্মকর্তার স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর এই অবস্থানের পেছনে মূলত হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডই মূল দায় বহন করছে। শুধু তাই নয়, হিজবুল্লাহকে লেবাননের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ‘প্রধান বাধা’ হিসেবেও চিহ্নিত করেছে ওয়াশিংটন। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর অবিরাম সামরিক তৎপরতা ও সংঘাতময় কর্মকাণ্ডের কারণে লেবাননের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘পাইলট জোন’ কর্মসূচির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। এই বিশেষ ব্যবস্থার রূপরেখা অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের নির্দিষ্ট কিছু চিহ্নিত এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী ধাপে ধাপে নিজেদের সরিয়ে নেবে এবং ঠিক সেই খালি হওয়া অঞ্চলগুলোতে লেবাননের নিয়মিত জাতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। ওয়াশিংটনের মতে, দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি টেকসই ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পথ।
তবে লেবানন সংকট নিয়ে মার্কিন এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই গত শনিবার দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে চরম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এদিন ইসরাইলি বিমান বাহিনীর চালানো ক্রুর হামলায় নারী ও তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। চলতি বছরের জুনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার পর দক্ষিণ লেবাননে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সম্প্রতি হিজবুল্লাহর চালানো হামলায় তাদের তিন সেনা আহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে এই হামলায় হিজবুল্লাহর এক কমান্ডারও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেল আবিব। অন্যদিকে, লেবাননের সরকার এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিক হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছে। উল্লেখ্য, গত জুনে মার্কিন মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে যে কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছিল, তাতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি শর্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে মাঠপর্যায়ে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্র ত্যাগের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল দুটি প্রধান বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও তীব্র মতবিরোধ ও অনাস্থা বজায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন