পায়েচালিত রিকশাকে ‘আধুনিক দাসত্ব’ হিসেবে অভিহিত করে তা অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য বৈজ্ঞানিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, পরিবেশ সচিব, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকে এই নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুনের পক্ষে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, দেশের মাত্র ১ শতাংশের কম মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেটকার ব্যবহার করলেও তা সড়কের সিংহভাগ জায়গা দখল করে রাখে। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি ভর্তুকির ওপর যেমন চাপ তৈরি হচ্ছে, তেমনি এসব গাড়ি থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া চরম বায়ুদূষণ ঘটিয়ে সংবিধান স্বীকৃত জনস্বাস্থ্য ও জীবনের অধিকারকে বিপন্ন করছে। তাই প্রাইভেটকারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং উচ্চহারে পরিবেশ কর ধার্যের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, চরম দারিদ্র্যের কারণে প্রান্তিক মানুষ পায়েচালিত রিকশার যে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে বাধ্য হন, তা তাদের অকাল বার্ধক্য ও স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির কারণ ঘটায়। সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেহেতু জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ, তাই অমানবিক এই প্যাডেল রিকশা বন্ধের জোরালো দাবি তোলা হয়েছে।
পাশাপাশি দেশের ৯৯ শতাংশ সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও অর্থনীতি সচল রাখতে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে একটি মানবিক ও আধুনিক রূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গতি, ব্রেকিং সিস্টেম ও কাঠামোগত নিরাপত্তার জন্য এই খাতের দ্রুত একটি বৈজ্ঞানিক নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করাকে ডকট্রিন অব প্রপোরশনালিটি অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত বলে উল্লেখ করা হয়। বেকারত্ব দূর ও যানজট কমাতে রাইড শেয়ারিং, রেন্ট-এ-কার এবং মিটারভিত্তিক গাড়ি সেবাকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় গণপরিবহন ও নিরাপদ রিকশাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন