দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনয়ন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি জোরদার করতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট (এফএক্সএম) মডিউল’ নামক এই বিশেষায়িত স্বয়ংক্রিয় কাঠামোর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়-বিক্রয়ের নিলাম, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পারস্পরিক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং গ্রাহক পর্যায়ের যাবতীয় বৈদেশিক মুদ্রার তথ্য এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। গত সোমবার দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন এই নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এতদিন যেসব কার্যক্রম ম্যানুয়াল বা প্রচলিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হতো, তা এখন থেকে এফএক্সএম মডিউল সিস্টেমের মাধ্যমেই সম্পাদন করতে হবে। স্বয়ংক্রিয় এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার নিলামে অংশ নিতে হলে অনুমোদিত ডিলার বা এডি ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে দর বা বিড জমা দিতে হবে, যেখানে সর্বনিম্ন অর্ডারের পরিমাণ হবে ৫ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া ব্যাংকগুলোর মধ্যকার আন্তঃব্যাংক স্পট, ফরোয়ার্ড ও সোয়াপ লেনদেনও ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ বা ওটিসি স্ক্রিন এবং নির্ধারিত মেকার-চেকার কাঠামোর মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে।
বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত রেফারেন্স রেট বা বিনিময় হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই মডিউলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলোকে প্রতিদিনের রপ্তানি, আমদানি ও রেমিট্যান্স সংক্রান্ত গ্রাহক পর্যায়ের প্রকৃত তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (বেলা সাড়ে ১১টা ও বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে) সেন্ট্রাল ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে ১ লাখ ডলার বা তার বেশি পরিমাণের লেনদেন এবং রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে যেকোনো ক্ষুদ্র অঙ্কের তথ্যও সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের তথ্য ব্যবস্থাপনা সুসংহত হবে এবং একটি বাস্তবসম্মত এক্সচেঞ্জ রেট তৈরি হওয়ার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় সহায়তা মিলবে।
মন্তব্য করুন