কেমব্রিজের অধ্যাপক জেসন আরডের বিরুদ্ধে পিএইচডি ও গবেষণাপত্রে জালিয়াতি বা প্লাজিয়ারিজমের গুরুতর অভিযোগ তুলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের পুলিশি জেরার মুখে পড়েছেন স্বনামধন্য শিক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ (THE)-এর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জ্যাক গ্রোভ। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাজকীয় বিচারালয়ে একটি শুনানির সংবাদ সংগ্রহের সময় তার ফোনে মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে একটি কল আসে। পুলিশ কর্মকর্তা তাকে জানান যে, অধ্যাপক জেসন আরডের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে যেন আরডের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ না করা হয়, কারণ এতে ওই অধ্যাপকের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। অথচ সাংবাদিক জ্যাক গ্রোভ জনস্বার্থে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতেই গবেষণা নিখুঁতভাবে যাচাই করে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন জ্যাক গ্রোভ ৯৭ পাতার একটি বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণসহ প্রতিবেদন তৈরি করেন, যেখানে দেখা যায় জেসন আরডন ২০০৯ সালে ব্রুনেল ইউনিভার্সিটির গবেষক পলা জ্জোজিয়াক-মায়ার্সের লেখা থিসিস এবং যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও আরব আমিরাতের বিভিন্ন গবেষকদের কাজ যথাযথ উদ্ধৃতি ছাড়াই নিজের গবেষণায় ব্যবহার করেছেন। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে লিভারপুল জন ম্যুরেজ ইউনিভার্সিটি (LJMU) বিষয়টি তদন্ত করলেও পরবর্তীতে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। তবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এরপরই আরডের একাডেমিক রেকর্ড ও সিভির বিষয়ে আলাদা তদন্ত শুরু করে, যার জেরে জেসন আরডন তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সাংবাদিক জ্যাক গ্রোভ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিতভাবে মাত্র কয়েকটি তথ্যভিত্তিক ইমেইল পাঠিয়ে সঠিক বক্তব্য বা রাইট অফ রিপ্লাই নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই গণমাধ্যমকর্মী।
সাংবাদিক জ্যাক গ্রোভ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সংবাদমাধ্যমের কাজ হলো গবেষণার নৈতিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অসততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং জনস্বার্থে সত্য তুলে ধরা। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপের মুখে পড়ে পুলিশি বা আইনি ভয় দেখিয়ে সত্য অনুসন্ধানের মুখ বন্ধ করা যায় না। আরডের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা এবং সামগ্রিক ব্রিটিশ একাডেমিয়ার গবেষণা নীতি নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই গেছে। সংবাদকর্মী হিসেবে পেশাগত সততা বজায় রেখে কাজ করার কারণে পুলিশের মুখোমুখি হওয়াকে তিনি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর একধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বলেই মনে করছেন।
মন্তব্য করুন