রাজধানীর পল্লবী থানা থেকে হ্যান্ডকাপ খুলে পালিয়ে গেছেন ডিএমপি প্রসিকিউশনের এক সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ঘটনার পর থেকে দায়িত্বরত পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করছে।
রাজধানীর পল্লবী থানা থেকে মো. শহিদুল ইসলাম (২০) নামে এক সাজাপ্রাপ্ত আসামির পলায়নের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে প্রিজনভ্যানে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে কৌশলে হ্যান্ডকাপ খুলে থানার বাউন্ডারি টপকে পালিয়ে যান তিনি। পলাতক শহিদুল ডিএমপি অধ্যাদেশের একটি মামলায় দুই মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। তার বাবার নাম মতিন মিয়া এবং বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মিরপুর বিভাগের অধীনস্থ কয়েকটি থানার ডিএমপি অধ্যাদেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের নিরাপত্তার খাতিরে পল্লবী থানার হাজতে রাখা হতো। ঘটনার দিন মিরপুর মডেল থানার আসামি স্কট পার্টির মাধ্যমে শহিদুলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর জন্য হাজতখানা থেকে নিচে নামানো হয়। প্রিজনভ্যানের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হাতকড়া পরা অবস্থায়ই তিনি পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে দ্রুত বাউন্ডারি দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।
এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে পল্লবী থানা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। আসামি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করার পরিবর্তে থানা কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করছে। এ বিষয়ে জানতে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এমন কোনো ঘটনার তথ্য অস্বীকার করেন।
এদিকে, থানার মতো একটি সুরক্ষিত জায়গা থেকে পুলিশের নজর এড়িয়ে আসামির পলায়নের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সাথে জড়িত ও দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া এই পলায়নের ঘটনায় নিরাপত্তা গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে তদন্তের দাবি উঠেছে।