সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী নেতা গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্য কাটছেই না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ১৮ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুন নিজেকে ওই এমপির স্ত্রী বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজেও লিখিত বিবৃতিতে মরিয়মকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে স্বীকার করেন এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি জানান। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে মরিয়মের একটি বায়োডাটা, যেখানে বিয়ের পরও তার বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২২ জুন তারিখে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নিজের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি বায়োডাটা প্রকাশ্যে এসেছে। ওই নথিতে এমপির স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লিখে ‘জোর সুপারিশ করছি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এমপির দাবি অনুযায়ী এর পাঁচ দিন আগেই অর্থাৎ ১৭ জুন তাদের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নিজের স্ত্রীর বায়োডাটায় বিয়ের পাঁচ দিন পরেও কেন তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে সুপারিশ করলেন ওই সংসদ সদস্য। এই অসঙ্গতি সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই তরুণী এমপির সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে নানা অভিযোগ তুলছেন। যদিও সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, মরিয়ম আক্তার নামে ওই তরুণীর বাড়ি সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নে এবং বর্তমানে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন। প্রথম স্ত্রীসহ পরিবারের সবার সম্মতিতেই এই বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করলেও বায়োডাটায় তথ্য গোপনের এই বিষয়টি পুরো ঘটনাটিকে আরও বেশি রহস্যজনক করে তুলেছে।
মন্তব্য করুন