লেবানন, সিরিয়া এবং গাজা উপত্যকায় বর্তমানে ইসরাইল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই তেল আবিবের। বুধবার (১ জুলাই) ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং ইসরাইলি নাগরিকদের জিহাদি সংগঠনগুলোর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই অঞ্চলগুলোতে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে।
২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধে নিহত সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, নিরাপত্তা বলয় থেকে কোনো অবস্থাতেই সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে না। তার এই ঘোষণা লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মার্কিন-মধ্যস্থতাকারী শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যদিও ওই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল শান্তির পথ তৈরি করা এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা, কিন্তু ইসরাইলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ইরানকেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কাটজ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের জের ধরে তেহরান যদি কোনো ধরনের পাল্টা হামলা চালায়, তবে তার জবাব দেওয়া হবে পূর্ণ শক্তিতে। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা এবং ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষ চলমান রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রশাসনের এই অবস্থান পরিষ্কার যে, তারা তাদের ভৌগোলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থকে যেকোনো শান্তি আলোচনার চেয়েও বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরাইলের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী উত্তজনা ও অস্থিতিশীলতা বজায় রাখবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন