যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে নতুন এক গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে—১৯৪৮ সালে প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যানের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত প্রায় সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই কোনো না কোনো পর্যায়ে ইসরাইলপন্থি লবির রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এর ফলে বহু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত জাতীয় স্বার্থের চেয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপই পররাষ্ট্রনীতিকে বেশি প্রভাবিত করেছে।
প্রতিবেদনে ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনে যুদ্ধ চলাকালে ট্রুম্যানকে সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা সতর্ক করলেও নির্বাচনি বাস্তবতা বিবেচনা করে তিনি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেন। একইভাবে ১৯৭০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড এবং হেনরি কিসিঞ্জার মধ্যপ্রাচ্য নীতির পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিলেও আমেরিকান-ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC) ও ৭৬ জন সিনেটরের ব্যাপক রাজনৈতিক চাপে শেষ পর্যন্ত সেই সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার, জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ, বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনও বিভিন্ন সময়ে ইসরাইলি বসতি নির্মাণ কিংবা সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে শক্তিশালী লবির বিরোধিতার মুখে নিজেদের শক্ত অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
গাজায় সংঘটিত সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলকে ঘিরে জনমতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছেন লেখকরা। বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন এবং কংগ্রেসের প্রাইমারি নির্বাচনে ইসরাইলের সমালোচক প্রার্থীরা আগের তুলনায় বেশি সফল হচ্ছেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভোটারদের মধ্যেও এর বড় রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে। তবে জনমতের এই পরিবর্তন সত্ত্বেও ইসরাইলপন্থি লবির প্রভাব কমেনি এবং তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য-সংক্রান্ত নীতিকে প্রভাবিত করতে এখনও সক্রিয় রয়েছে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, ভিন্নমতের মানুষ যদি ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ তকমার ভয়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে না পারেন, তবে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ভবিষ্যতেও ভারসাম্যহীন থেকে যাবে।
মন্তব্য করুন