২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই হাইভোল্টেজ ও রোমাঞ্চকর ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে দলের মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় আলবিসেলেস্তেরা। ক্রীড়া বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট স্পোর্টস মোলের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম কোনো দেশ হিসেবে ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখার অনাকাঙ্ক্ষিত এক বাজে রেকর্ডের জন্ম দিল আর্জেন্টিনা।
মূলত রেফারির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে আগেই একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন চেলসি মিডফিল্ডার এনজো। এরপর ম্যাচ যখন নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটে গড়ায়, তখন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর একটি অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে বসেন তিনি। ফলস্বরূপ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। ম্যাচটিকে যেকোনো মূল্যে টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়ার জন্য যখন মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা, ঠিক সেই মুহূর্তেই ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে বড় বিপদে পড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অবশ্য ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হয় ১০৬তম মিনিটে। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস নিকো উইলিয়ামসের চমৎকার একটি নকডাউন থেকে সুযোগ লুফে নিয়ে ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেন। পুরো ৯০ মিনিটের এই লড়াইয়ে পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি, যা তাদের আক্রমণভাগের বিবর্ণ রূপকেই ফুটিয়ে তোলে।
এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলোয়াড় লাল কার্ড পাওয়ার পুরোনো তিক্ত স্মৃতি যেন নতুন করে ফিরে এল। ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে পেদ্রো মনজোন ও গুস্তাভো দেজোত্তি লাল কার্ড দেখেছিলেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার সেই ঘটনা এতদিন একমাত্র নজির ছিল। এছাড়া ফাইনালে সর্বোচ্চ দুটি লাল কার্ড নিয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে শীর্ষে ছিল। কিন্তু রোববারের এই ঘটনার পর এককভাবে ফাইনালে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার লজ্জার রেকর্ড এখন কেবল আর্জেন্টিনারই দখলে।
এই পরাজয় বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বেদনাময় ইতিহাসকে আরও কিছুটা দীর্ঘায়িত করল। এর আগে ১৯৩০, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালের ফাইনাল হারার পর এখন তাদের ঝুলিতে মোট চারটি রানার্সআপ ট্রফি জমা হলো, যা বিশ্বমঞ্চে জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাইনাল হারের রেকর্ড। ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের সোনালী ট্রফি জয়ের আনন্দের পাশাপাশি এই হতাশার পরিসংখ্যানও এখন আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রইল।
মন্তব্য করুন