রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গরম পানি দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে স্বামী সানাউল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে। তবে মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ৯ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এরশাদ আলম জর্জ রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার দিন কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে আটক প্রধান আসামি সানাউল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারকের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে খালাস পাওয়া ৯ আসামি হলেন আলী হোসেন, মিন্টু মিয়া, নুর ইসলাম, শহিদুল্লাহ, মো. কালু, শহিদুল, বেগম, রেনু বেগম ও আ. খালেক।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৮ নভেম্বর সানাউল্লাহর সঙ্গে রুবিনা আক্তার পিংকির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে যৌতুকের দাবি করে আসছিল স্বামী সানাউল্লাহ এবং যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় প্রায়ই পিংকির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এর জেরে ২০০৬ সালের ২ মে ক্ষিপ্ত হয়ে সানাউল্লাহ তার স্ত্রীর গায়ে গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেন। পিংকির তীব্র আর্তনাদ ও ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মর্মান্তিকভাবে না ফেরার দেশে চলে যান রুবিনা আক্তার পিংকি।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম মোস্তফা একমাত্র স্বামী সানাউল্লাহকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন এবং অপর আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন। তবে মামলার বাদী সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন দাখিল করলে আদালত অধিকতর তদন্ত ও পর্যালোচনার পর সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারকার্য শুরু করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন, যেখানে মামলার বিচার চলাকালে মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
মন্তব্য করুন