বাবার প্রয়াণের পর শোকের ছায়া কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন বিশ্ব ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নেমে চমৎকার একটি গোল করে প্রয়াত বাবাকে দারুণ এক আবেগঘন শ্রদ্ধা জানান তিনি। সুবারু পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে অবশ্য শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি ইন্টার মায়ামি। দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়।
চলতি মাসের শুরুতে আর্জেন্টতার রোসারিওতে ৬০ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের ফুটবল প্রতিনিধি হোর্হে মেসি। বাবার এমন আকস্মিক প্রয়াণে ভেঙে পড়েছিলেন এই মহাতারকা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবাকে নিজের বন্ধু ও পথপ্রদর্শক উল্লেখ করে তিনি লিখেছিলেন, বাবাকে ছাড়া কীভাবে সামনে এগোবেন তা তিনি জানেন না। তবে সব শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে মাঠে নেমেই নিজের জাত চেনালেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ২৬ মিনিটে দারুণ দক্ষতায় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান তিনি। গোল করার পর সতীর্থদের উষ্ণ আলিঙ্গনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি, যা মুহূর্তেই ছুঁয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি ভক্তের হৃদয়।
চলতি মেজর লিগ সকারে এটি ছিল মেসির ১৩তম গোল। এর ফলে গতবারের গোল্ডেন বুট জয়ী মেসি এবার তালিকার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ডালাসের পেতার মুসার থেকে কেবল এক গোলের ব্যবধানে রয়েছেন। তবে মেসির এই গোলটি ইন্টার মায়ামির জয় নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ফিলাডেলফিয়ার নিল পিয়েরে সমতা সূচক গোল করলে স্কোরলাইন ২-2 হয়। এরপর উভয় দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালালেও আর কোনো জালের দেখা পায়নি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছায়। ফিলাডেলফিয়ার কাভান সুলিভান এবং মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দুই দলই ১০ জনের দলে পরিণত হয়। টানা তিন ম্যাচ হারের পর এই ড্রয়ের ফলে কিছুটা স্বস্তি পেলেও ইস্টার্ন কনফারেন্সে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে ইন্টার মায়ামি। ২০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩৯, যা শীর্ষস্থানধারী ন্যাশভিলের চেয়ে ৭ পয়েন্ট কম। অন্যদিকে টানা পঞ্চম জয়ের খোঁজে থাকা ফিলাডেলফিয়াও তাদের সেরাটা দিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছে। এর আগে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন মেসি, যদিও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। বাবাকে হারিয়ে শোকাহত মেসি মাঠের খেলায় যেভাবে নিজের একাগ্রতা ধরে রেখেছেন, তা প্রমাণ করে কেন তিনি ফুটবল বিশ্বের অনন্য এক নক্ষত্র।
মন্তব্য করুন