ব্রাজিল ফুটবল মানেই একরাশ শৈল্পিক ফুটবল, যাকে বিশ্ব চেনে ‘জোগো বোনিতো’ বা সুন্দর খেলা হিসেবে। গত কয়েক বছরে পরিসংখ্যানের বিচারে জয় পেলেও মাঠের খেলায় সেই পুরোনো জাদু যেন হারিয়ে গিয়েছিল সেলেসাওদের কাছ থেকে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের চলতি আসরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি যেন সেই হারানো আয়নার খোঁজ দিল। দীর্ঘদিনের ছকবদ্ধ ও হিসাবি ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে ব্রাজিলকে আবার বলের সঙ্গে প্রেম করতে দেখা যাচ্ছে।
এই পুনর্জাগরণের কেন্দ্রে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যার ফুটবলে আধুনিকতার সঙ্গে মিশে আছে বেপরোয়া সৌন্দর্য। কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং শিল্পীসুলভ স্বাধীনতার সমন্বয়ে দলটিতে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসছে। কোচ হিসেবে আনচেলত্তি এখন দলকে শুধু কার্যকরী নয়, বরং স্বপ্ন দেখতেও শেখাচ্ছেন। এর সঙ্গে নেইমারের প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের আক্রমণভাগে যে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা তুঙ্গে।
অবশ্যই, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আসল পরীক্ষা এখনো বাকি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে ব্রাজিলের এই ছন্দ কতটুকু টেকসই হয়, সেটাই দেখার বিষয়। তবে দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে অন্তত এখন মনে হচ্ছে, ব্রাজিল আবার ব্রাজিলের মতো ফুটবল খেলছে। দূর থেকে ভেসে আসা সাম্বার সেই সুর যদি বিশ্বকাপে পূর্ণতা পায়, তবে শুধু ব্রাজিল নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বই যেন তার প্রাণ ফিরে পাবে।
সামনের দিনগুলোতে যদি ভিনিসিয়ুস ও নেইমার জুটির সামঞ্জস্যতা বজায় থাকে, তবে হেক্সার স্বপ্ন পূরণের পথে সেলেসাওরা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রাজিল যখন নিজের ছন্দে থাকে, তখন ফুটবল বিশ্ব যেন আরও কিছুটা বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে।
মন্তব্য করুন